পরীক্ষার শুরুতে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা চললেও প্রায় এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের নজরে আসে।
ঘটনা জানাজানি হলে কেন্দ্র সচিব মো. আবদুল মতিন সরকার দ্রুত সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভুল সংশোধন করে সঠিক প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা কেন্দ্র সচিবের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।
জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়, দবরউদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নাসিম মেমোরিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুলের ৭৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এদের মধ্যে ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এ প্রশ্নেই শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট পরীক্ষা দেয়।
সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার জানায়,বহুনির্বাচনি পরীক্ষা শেষে তারা সৃজনশীল পরীক্ষায় অংশ নেয়।তাদেরকে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরীক্ষার প্রথম দিন হওয়ায় বিষয়টি প্রথমে তাদের নজরে আসেনি।
মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়মান রহমান বলেন, এমন ভুল বারবার হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এ ধরনের ঘটনা রোধে আরও সতর্কতা প্রয়োজন।
অভিভাবক রাবেয়া বসরি বলেন, কেন্দ্র সচিবের গাফিলতির কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। এ ঘটনার দায় নিয়ে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে কেন্দ্র সচিব মো. আবদুল মতিন সরকার বলেন, সিলেবাসের সাল দৃষ্টিগোচর না হওয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া প্রশ্নের অতিরিক্ত আরও দুটি প্রশ্নের প্যাকেট বেশি আসার কারণে বিষয়টি নজরে আসেনি। ফলে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। আগামী দিনে এ বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, পুরাতন সিলেবাসে পরীক্ষার বিষয়টি নজরে আসামাত্র বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আশা করি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। পরীক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।