এহছানুল হক মিলন আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা দিয়েছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও কঠোর নজরদারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এবারের পরীক্ষায় আমরা মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখেছি সবখানেই শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্র সচিবরা নিজ নিজ কক্ষে বসে সরাসরি পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করা সম্ভব হয়।
প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এবার কোথাও প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং এমন কোনো সম্ভাবনাও নেই। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে পরীক্ষা দিচ্ছে, যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর বাইরে অভিভাবকদের জন্য পানীয় পানি ও হালকা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষক ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে মানবিক আচরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী অযথা আতঙ্কিত না হয়।
এডমিট কার্ড বিতরণে কিছু জায়গায় দেরি হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রিন্টিংয়ে সমস্যা হয়েছে, তবে কেউ পরীক্ষার বাইরে পড়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।মন্ত্রী আরও জানান, জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষা পুনরায় চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই, কারণ এই পদ্ধতি আগে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তা নিয়ে অংশীজনদের আপত্তি ছিল।
কারিকুলাম সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাজ চলছে এবং তিনি নিজে নিয়মিত তদারকি করছেন। শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি জানানো হবে।
প্রশ্নফাঁস ও গুজব প্রতিরোধে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য ইতোমধ্যে সাইবার কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়।
